রুবেলকে নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে, কী হবে!

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের আগে ওখানে পৌঁছে যে অনুশীলন করছে বাংলাদেশ, সেটাই পুঁজি মুশফিকদের। এর আগে হোমে খেলেছে তারা সিরিজ। তার আগে সর্বশেষ খেলেছিলেন তারা শ্রীলঙ্কায়। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে কন্ডিশনটা কেমন হবে সেটা দলের অনেক ক্রিকেটারের এক রকম অজানা। ফলে সিরিজের আগে যে অনুশীলন ও তার আগে তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ সেটাই সম্বল টিম বাংলাদেশের। কিন্তু সে প্রস্তুতিটা মিস করছে দলের গুরুত্বপূর্ণ এক ক্রিকেটার। পেস বোলার রুবেল হোসেন আদৌ যেতে পারবেন কি না সেটা নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ দেখা দিয়েছে। দুই ম্যাচের টেস্ট স্কোয়াডে রয়েছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এ পেসার।

মাশরাফি যেহেতু খেলছেন না। সেখানে মুস্তাফিজের সাথে রুবেলের জুটিটা অনেক কার্যকরি ভূমিকা রাখবে বলেই ছিল নির্বাচকদের আস্থা। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার ইমিগ্রেশনের এক জটিলতার কারণে রুবেলকে নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। বিসিবির সিইও নিজামুদ্দিন চৌধুরী উপায়ন্ত না দেখে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাহী হারুন লারগাতের সাথে যোগাযোগ করেছেন। তিনি অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন বিষয়টির সুরাহা করবেন।

সমস্যার মূলে রয়েছে রুবেল হোসেন নামে একজনকে দক্ষিণ আফ্রিকার ইমেগ্রেশন কালো তালিকাভুক্ত করেছে। তার ওই দেশে ঢোকার অনুমতি নেই। ফলে যখনই রুবেলের নাম ইমেগ্রেশনের ডাটাতে দেয়া হয়,তখন সেটা ব্লক হয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকাতে ঢুকতে হলে তাদের যে নতুন নিয়ম করা হয়েছে সেটা মেনেই যেতে হবে। ভিসা প্রাপ্তির পর এয়ারলাইন্স যে যাত্রীকে বহন করবে তার একটা তালিকা দক্ষিণ আফ্রিকার ইমেগ্রেশনে পাঠানোর নিয়ম। সেখান থেকে বিমান ওঠার জন্য ওকে আসার পরই বিমান যাত্রীর বোর্ডিং পাস দেবে। কিন্তু ১৫ সদস্যের টেস্ট স্কোয়াড দুই গ্রুপে ঢাকা ত্যাগ করলেও শেষ গ্রুপে থাকা রুবেল যেতে পারেননি। বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসতে হয়েছে তাকে বাসায় ওই জটিলতার জন্য। গতকাল এ রিপোর্ট লেখাকালীন পর্যন্ত বিসিবি চেষ্টা করে গেছে। কিন্তু কোনো সুরাহা করতে পারেনি বিষয়টির।

এ দিকে আগামীকাল ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন দিনের ম্যাচে রুবেলের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায়। শুধু তিন দিনের ম্যাচই নয়। আদৌ তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা যেতে পারবেন কি না এ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ দেখা দিয়েছে। শুধু টেস্টই নয়, রুবেল তিন ভার্সানের জন্যই সম্ভব্য খেলোয়াড়। যদিও টেস্ট ম্যাচ ছাড়া অন্য তিন ভার্সানের দল চূড়ান্ত হয়নি। কারণ ওই কন্ডিশনে রুবেলের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে টিম ম্যানেজম্যান্ট হোম সিরিজে তাকে না খেলালেও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার হিসেবেই দলভুক্ত করেছেন।

দলের সাথে রুবেল না থাকার কারণে খেলোয়াড় সংখ্যা ১৪। সেখানে পেস বোলার রয়েছেন মুস্তাফিজ, তাসকিন আহমেদ, শফিউল ইসলাম ও শুভাশিষ রায়। তবে রুবেলকে যদি শেষ পর্যন্ত না-ই পাঠানো যায় সেটাও প্রেস্টিজিয়াস ইস্যু হয়ে যাবে ক্রিকেট বাংলাদেশের। এবার বিষয়টির সুরাহা না হলে আর কোনো দিন রুবেল দক্ষিণ আফ্রিকায় যেতে পারবেন বলে মনে হয় না। ফলে বিসিবির দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এ দিকে রুবেলকে যদি শেষ পর্যন্ত না-ই পাঠানো যায় তাহলে কী করা হবে এ বিষয়টিও এখন বিবেচনায় আসছে। তার পরিবর্তে অন্য এক পেসারকে পাঠানো হবে।

কিন্তু সে জন্য কতদিন অপেক্ষা করতে হবে সেটা ভেবেও কুলকিনারা হচ্ছে না। বিসিবির পরিচালক ও ক্রিকেট অপারেসন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান অবশ্য আশাবাদী যে রুবেল অবশ্যই দক্ষিণ আফ্রিকা যাবেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ এক ক্রিকেটার তিনি সেটা জানিয়ে তার যাওয়ার ব্যাপারে বিসিবি শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাবেন বলেও জানিয়েছেন। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে প্রথম টেস্ট।

loading...