দেশ পরিচালনায় খালেদা জিয়ার যতো সুবচন অঙ্গীকার

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আগামীতে দেশ পরিচালনায় ভিশন ২০৩০ ঘোষণা করেছেন।এই ভিশনে তিনি একটি সুখী, সমৃদ্ধ, আধুনিক ও আত্মমর্যাদশীল রাষ্ট্র গঠনে নিজ দলের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।তার ঘোষিত ওই ভিশনে দেশ পরিচালনার জন্য ৩৭টি বিষয়ের উপর মোট ২৫৬টি টকিং পয়েন্টস দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ঘোষণা করেছেন। তবে তিনি তার বক্তব্যের শুরুতে বলেন, তার ঘোষিত নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার অর্থ্যাৎ একটি যথার্থই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে

অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে আমাদের এই ভিশন-২০৩০ বাস্তবায়ন করা হবে। তবে তিনি দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দ্বি কক্ষ বিশিষ্ট জাতীয় সংসদ প্রচলন করার কথা বললেও তার ঘোষিত রুপকেল্প বলেন, সংবিধানের এক-কেন্দ্রিক চরিত্র অক্ষুণ্ন রেখে বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে পরিক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে ‘হোটেল ওয়েষ্টিনে’এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভিশন ২০৩০ উপস্থাপন করার সময়ে তিনি এ কথা বলেন। সাড়ে ৪টায় সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও খালেদা জিয়া অনুষ্ঠানস্থলে আসেন ৪ টা ৫২ মিনিটে।

বিকাল ৫টায় শুরু হওয়া তার এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি দীর্ঘ বক্তব্যে গণতন্ত্র, জাতি গঠন, সুশাসন, প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি, নৈতিকতার শক্তি পুনরুদ্ধার, পরিষেবা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা, সন্ত্রাসবাদ, অর্থনীতি, গবেষণা ও উন্নয়ন (জ্উ), জনমিতিক লভ্যাংশ শিক্ষা ও মানবসম্পদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ক্রীড়া, সংষ্কৃতি, বিদেশে কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ, মিডিয়া ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার, কৃষি ও কৃষক, শ্রমিক কল্যাণ, নগরায়ণ ও আবাসন, নিরাপদ খাদ্য ও ঔষধ, স্বাস্থ্যসেবা, যুব-শিশু ও নারী, জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সম্পদ, নীল অর্থনীতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিল্প, যোগাযোগ, পর্যটন, সম্পদ সংরক্ষণ, সামাজিক ব্যাধির সমস্যা, ভূমিকম্প, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অনগ্রসর অঞ্চলের জন্য পদক্ষেপ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি –এই ৩৭টি বিষয়ের ওপর ভবিষ্যত কর্মপরিকল্পনার কথা জানান।

বিএনপির ঘোষিত রুপকল্প অর্জন করা কঠিন হলেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মনে করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, এই ভিশন বাস্তবায়নে আমরা দেশবাসীর সক্রীয় সমর্তনের পাশাপাশি উন্নয়ণ সহযোগী রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানসমূহেরও সহযোগিতা পাবো।’ দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিক এই ভিশন বাস্তবায়নে  বিএনপিকে সক্রীয় সমর্থন দেবে বলেও প্রত্যাশা করেন খালেদা জিয়া।

গণতন্ত্র :

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তার বক্তব্যের শুরুতে দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে বাংলাদেশের জনগণ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিল আজ সে রাষ্ট্রের  মালিকানা তাদের হাতে নেই। তাই দেশের জনগণের হাতেই দেশের মালিকানা ফিরিয়ে দিতে চায় বিএনপি। আমরা ‘ওয়ান ডে ডেমোক্রেসিতে’ বিশ্বাসী নই। জনগণের ক্ষমতাকে কেবল নির্বাচনের দিন বা ভোট দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চায়না বিএনপি।নিত্যদিনের জন-আকাঙ্খাকে মর্যাদা দিয়ে তাদেরকে সম্পৃক্ত করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করবো আমরা।

তিনি বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র ‘বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার কাঙ্খিত লক্ষ্যে জাতিকে পৌঁছাতে দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ।এজন্য সুনীতি, সুশাসন এবং সু-সরকারের (৩এ) সমন্বয় ঘটাবে বিএনপি। সুধী সমাজ, গণমাধ্যম, জনমত জরিপ, জনগণের দৈনন্দিন চাওয়া-পাওয়া, বিশেষজ্ঞ মতামত ও অভিজ্ঞতার আলোকে দেশ পরিচালনা করা বিএনপি’র লক্ষ্য।

এসময় তিনি বলেন, বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোয় প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা এককভাবে প্রধানমন্ত্রীর উপর ন্যস্ত। এরূপ ব্যবস্থা সংসদীয় সরকার পদ্ধতির স্বীকৃত রীতির পরিপন্থি। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় দেশবাসী গভীরভাবে উপলব্ধি করছে যে, প্রধানমন্ত্রীর একক নির্বাহী ক্ষমতা সংসদীয় সরকারের আবরণে একটি স্বৈরাচারী একনায়কতান্ত্রিক শাসনের জন্ম দিয়েছে। বিদ্যমান অবস্থার অবসানকল্পে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনা হবে।

এসময়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর সংবিধানের পঞ্চদশ ও ষষ্ঠদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোট ব্যবস্থা বাতিল, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল, সংসদ বহাল রেখে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান প্রবর্তন, সংবিধানের কিছু বিষয় সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ এবং সংবিধানের কতিপয় ধারা-উপধারা সংশোধনের অযোগ্য করার বিধান প্রবর্তন, উচ্চ আদালতের বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্তকরণের বিধানসহ কয়েকটি অগণতান্ত্রিক বিধান প্রণয়ন করেছে।

বিএনপি এসব বিতর্কিত ও অগণতান্ত্রিক বিধানাবলী পর্যালোচনা ও পুন:পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কার করবে। বিএনপি সংবিধানে ‘গণ-ভোট’ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃস্থাপন করবে।

জাতীয় সংসদকে সকল জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে।

loading...

জাতীয় স্বার্থ সম্পর্কিত বিষয়ে বিরোধী দলসমূহের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। পাবলিক একাউন্টস কমিটি এবং পাবলিক আন্ডারটেকিংস কমিটির সভাপতিত্ব বিরোধী দলের সদস্যদের উপর অর্পণ করা হবে।

সংবিধানে ‘গণভোট’ ব্যবস্থা পুন:প্রবর্তণ করা হবে জানিয়ে প্রাক্তন এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদকে সকল জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে। জাতীয় স্বার্থ সম্পর্কিত বিষয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

সুশাসন ও কালাকানুন বাতিল:

খালেদা জিয়া বলেন, গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক সুশাসনের জন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান যেমন, নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল, এটর্নী জেনারেলসহ সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি দমন কমিশন, তথ্য কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, আইন কমিশন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান

স্বার্থপরতা ও দলীয়তার কালিমা মুক্ত করে এগুলোর দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃ প্রতিষ্ঠার জন্য আইনি ও প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ নেবে বিএনপি। তিনি বলেন, বিএনপি মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের মর্যাদায় বিশ্বাসী।

অবশ্যই আইনের শাসনের নামে কোনো প্রকার কালা-কানুনের শাসন গ্রহনযোগ্য হবে না। বিএনপি সকল প্রকার কালাকানুনন বাতিল করবে।বিশেষ ক্ষমতা আ্ইন  ১৯৭৪ বাতিল করবে।

বিচার বিভাগ ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে আ্ইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি নেত্রী বলেন, অধস্তন আদালতকে নির্বাহী বিভাগের আওতামুক্ত করার লক্ষ্যে সুপ্রীম কোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় স্থাপন করা হবে। দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ ও বিচারপ্রার্থীদের নিকট দায়বদ্ধ করার জন্য সমস্ত বিচার প্রশাসন ও বিচার প্রক্রিয়াকে পরিপূর্ণভাবে ইলেকট্রনিক্স/অনলাইন ব্যবস্থপনায় রুপান্তর করা হবে বলেও এ সময় জানান তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমানে থানায় গেলে পুলিশ মামলা নেয় না।এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য দেশব্যাপী থানাগুলোতে অনলাইন পদ্ধতি ও মোবাইল টেকনোলজি ব্যবহারের মাধ্যমে অভিযোগ দায়েরের সুযোগ সৃষ্টি করে ফৌজদারী বিচার প্রার্থীদের আইনের নিরাপত্তা পাওয়ার সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।’

প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে মামলার জট কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, নিম্ন আদালতের বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে ‘জুরি’ ব্যবস্থার পুন: প্রবর্তন করা হবে। গ্রাম আদালতকে  সংস্কারের মাধ্যমে কার্যকর আদালতের রূপান্তর করা হবে।বিচার ব্যবস্থার সংষ্কারের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের জুডিশিয়ালকমিশন গঠনের কথা জানান প্রাক্তন এই প্রধানমন্ত্রী।

আধুনিকায়ন হবে পুলিশ

বাংলাদেশ পুলিশকে দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে নিরেপক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে। পুলিশের ওপর বিচারবিভাগীয় তদারকির মাধ্যমে জবাবাদিহি ও কল্যাণমূলক জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে। নিম্ন পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের আট ঘণ্টার বেশি দায়িত্ব পালনের জন্য ওভার টাইম এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জন্য ঝুঁকিভাতা, আবাসন সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের সঠিক তালিকা করবে বিএনপি

মুক্তিযোদ্ধা তালিকা প্রণয়নের নামে দুর্নীতি হয়েছে দাবি করে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের ও শহীদদের সঠিক তালিকা করবে বলেও জানান খালেদা জিয়া। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের যে মূল্যায়ন করা হয় শহীদদের সেভাবে মূল্যায়ন করা হয় না উল্লেখ করে বিএনপি প্রধান বলেন, বিএনপির রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে একটি সঠিক তালিকা প্রনয়ণ করবে এবং তাদের যথাযথ মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করবে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ভাতা বৃদ্ধি করা হবে।মুক্তিযোদ্ধাদের ‘রাষ্ট্রের সম্মানিত নাগরিক’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হবে

২০৩০ সালে মধ্যে বিএনপি বাংলাদেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চায় জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, এ সময়ের মধ্যে মাথাপিছু আয় ৫ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত করা হবে।এজন্য বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ডাবল ডিজিটে উন্নীত করার সৃশনশীল ও বৃদ্ধিদীপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষাখাতে ডিডিপির ৫ ভাগ ব্যয় হবে:

শিক্ষাখাতে মোট দেশজ উৎপাদন-জিডিপির ৫ ভাগ ব্যয়ের কথা জানিয়ে বিএনপি প্রধান বলেন, এক দশকের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করা হবে। একটি পৃথক শিক্ষা চ্যানেল চালু করা হবে। মেয়েদের ও ছেলেদের জন্য স্নাতক ও সমপর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। বিএনপির শিক্ষানীতি হবে জীবনমুখী,ডিগ্রিমুখী নয়।

তথ্য ও প্রযুক্তি হবে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত

বিএনপি তথ্য ও প্রযুক্তি খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে জানিয়ে এই খাতকে ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত হিসেবে রুপান্তর করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন খালেদা জিয়া। ‘আউট সোর্সিং এবং সফটওয়ার খাতকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হবে এবং তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে বিদেশ থেকে অর্জিত অর্থ দেশে আনয়নের ক্ষেত্রে সকল প্রকাল অযৌক্তিক বাধা দূর হবে।ফ্রিল্যান্সার ও আউটসোর্সিং এর সঙ্গে জড়িত সকলকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে স্বল্প চার্জে গ্লোবাল প্রেমেন্ট গেটওয়ে সুবিধা দেয়া হবে।’ তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ সহজসাধ্য করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আইসিটি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ এবং দেশি-বিদেশি যৌথ উদ্যোগে নিশ্চিত করতে যথোপযুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ও নানামুখী প্রণোদনা প্রদান করা হবে।

এছাড়া আইসিটি শিল্পের জন্যমিচ্যুয়াল ফান্ড, সাশ্রয়ী মূল্যে সর্বোচ্চ গতির ইন্টারনেট, সারাদেশে উচ্চ মূল্যের ফোর জি কবারেজ, আইটি পার্ক, প্রত্যেক জেলায় স্মার্ট স্কুল প্রতিষ্ঠা, প্রতিটি জেলায় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার কথা বলেন খালেদা জিয়া।

বাতিল হবে ৫৭ ধারা

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিল করার প্রততিশ্রুতি দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি সুপীমকোর্টের একজন প্রাক্তর বিচারপতির নেতৃত্বে এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নাগরিক, আ্ইটি বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে।কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সব ধরনের গণমাধ্যমের জন্য সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নীতিমালা প্রনয়ণ করা হবে।তিনি

বলেন, বিএনপি সৎ সাংবাদিকতার পরিবেশ পুনরুদ্ধার করবে এবংচাঞ্চল্যকর সাগর-রুনি হত্যাসহ সকল সাংবাদিক হত্যার বিচার নিশ্চিত করবে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশে রুজুকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হবে।

বেকার ভাতা দেবে বিএনপি

বেকারদের ভাতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘একবছরব্যাপী অথবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত, যেটাই আগে হবে, শিক্ষিত বেকারদের ভাতা প্রদান করা হবে।যুব উদ্যোক্তাদের বেশি বেশি করে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার লক্ষ্যে প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়নে প্রয়োজনীয় সমর্থন, স্বল্প-সুদে ব্যাংক  ঋন এবং কর-ছাড় দেওয়া হবে। বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য যুবসমাজকে যথাযথভাবে দক্ষ ও সক্ষম করে তুলবে।’

বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো হবে

প্রবৃদ্ধি ডাবল ডিজিটে নেওয়ার জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৫ হজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, দেশের বিদ্যমান বিদ্যুত ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সইন্বত জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন

এবং তা বাস্তবায়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদষস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, তরিকুল ইসরাম, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, লে. জে. (অব). মাহবুবুর রহমান, এম কে আনোয়ার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, আবদুল্লাহ আল নোমান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, রুহুল আলম চৌধুরী, সেলিমা রহমান, শামসুজ্জামান দুদু, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, আবদুল মান্নান, খন্দুকার মাহবুব হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, হারুন উর রশিদ, ডা. এ. জেড এম জাহিদ হোসেন, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টাদের মধ্যে আমান উল্লাহ আমান, আতাউর রহমান ঢালী, ড.সুকোমল বড়ুয়া, অধ্যাপক তাজমেরী ইসলাম, এ জেড মোহাম্মদ আলী, হাবিবুর রহমান হাবিব, জয়নাল আবেদীন ফারুক, আবুল খায়েল ভুইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কল্যাণ পার্টিরর্ সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাগপা’র শফিউল আলম প্রধান, এনপিপির ড.ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, লেবার পার্টি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কূটনীতিকদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পলিটিক্যাল, ট্রেড, প্রেস এন্ড ইনফরমেশন মিনিস্টার কাউন্সিলর কোনস্টানটিনস ভারদাকিস, ব্রিটিশ হাইকমিশনের হেড অব পলিটিক্যাল সেকশন আদ্রিয়ান জনস, জার্মানের পলিটিক্যাল, কালচার এন্ড প্রেস সেকশনের থার্ড সেক্রেটারী ক্রিস্টিয়ান জুরপ্যাল,  বাংলাদেশে নিযুক্ত ভ্যাটিক্যান সিটির সেকেন্ড সেক্রেটারী এন্ড ডিএইচএম লুকা, মারাবেসে,  তুরস্কের ডেপুটি হেড অব মিশন ওরহান আইর্যাক, চীনের পলিটিক্যাল সেকশনের  থার্ড সেকেটোরী  লি জুআংইউ রেড ক্রসের বাংলাদেশ শাকলা ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বোরিস কেলেসেভিক, ডেনমার্কের ডেপৃটি হেড অব মিশন জ্যাকোব হাউগ্যার্ড, সুইডেনের হেডভিগ সোদারলিন্ড, ইউএনডিপির প্রতিনিধিচ্যারলেস ডেনহেজ, ইন্দোনেশিয়ার ইনফরমেশন, সোশ্যাল এন্ড কালচার সেকেন্ড সেক্রেটারী ফিতরি টিজ্যানদ্রা প্রিজান্তি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

loading...