কোরবানির ঈদ বলে কি সাজবেন না!

অনলাইন ডেস্ক
প্রিন্ট 

এক ঈদ যেতেনা যেতেই আরেক ঈদ চলে এসেছে। আজ বাদে কাল ঈদ। কিন্তু কোরবানির ঈদ বলে কি সাজগোজ বন্ধ রাখা যায়! তবে রোজার ঈদের সাজগোজের চাইতে কোরবানির ঈদের সাজগোজ একটু আলাদাই। যেহেতু সকাল থেকে প্রায় দুপুর পর্যন্ত আপনাকে কোরবানির মাংস গুছিয়ে ফ্রিজে রাখা, বিলানো এবং অতিথিদের আপ্যায়নের কাজে সরাসরি নিয়োজিত থাকতে হয় অথবা পরিবারের বড়দের এ কাজগুলোতে সাহায্য করতে হয়, তাই আপনার মেক-আপ এবং পোশাক হওয়া চাই ঘরোয়া এবং যথাসম্ভব আরামদায়ক।

এবার কোরবানির ঈদে থাকবে বর্ষার দাপট। তাই একটু বাছ-বিচার করেই প্রস্তুতি নিতে হবে সাজগোজের। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোরবানির ঈদের আপনার সাজ কেমন হবে।

১. এখন যেহেতু বর্ষাকাল আবহাওয়া অধিকাংশ সময়ই আর্দ্র থাকবে। তাই এ সময় ভাবনা চিন্তা করেন পোশাক নিব্যাচন করুন। দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন পোশাকই বেছে নিতে হবে। নরম জর্জেটের কাপড় এ আবহাওয়ায় হতে পারে আপনার জন্য সবচেয়ে বেশি আরামদায়ক।

২. মেক-আপ হবে একদম হালকা। ঘুম থেকে উঠেই গোসল সেরে নেয়া ভালো। মুখে ময়েশচারাইজার লাগিয়ে তার ওপর হালকা ভাবে কমপ্যাক্ট পাউডার বুলিয়ে নিতে হবে। তবে যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা Astringent লোশোন ব্যবহার করবেন, এতে কাজ করার সময় মুখ ঘেমে তেলতেলে হয়ে যাবে না এবং আপনার চেহারার সতেজতা বজায় থাকবে। এরপর চোখের উপরের এবং নীচের পাতায় ঘন করে কাজল দিন এবং সেটা যেন অবশ্যই ওয়াটার প্রুফ হয়। এবার ঠোঁটে নিউট্রাল কালারের লিপস্টিক লাগান।

৩. সবশেষে চুল অবশ্যই বাঁধুন। চুল বড় হলে খোপা করতে পারেন অথবা পেছনে পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে আটকে রাখতে পারেন। কপালের সামনে দিয়ে কাটা ব্যাঙ্গস, ফ্রিঞ্জ অথবা লেয়ারটি ছেঁড়ে রাখুন।

৪. কানে ছোট গোল্ড অথবা ইমিটেশনের স্টোন দেয়া টপ পরতে পারেন। গৃহিণীরা হাতে চিকন গোল্ড প্লেটেড অথবা ইমিটেশনের চুড়ি পরতে পারেন। হয়ে গেল আপনার কোরবানির ঈদের দিনের বেলার সাজ।

 

ঈদের দিন দুপুরে অনেক কাজ থাকলেও রাতের বেলা সেরকম কাজ থাকে না বললেই চলে। তাই রাতের বেলাকে অনেকে ঘুরাঘুরির জন্য বেছে নেন। এছাড়া দাওয়াত তো থাকেই। তাই এসময় সাজপোশাক একটু জমকালো হলে সমস্যা নেই। চলুন জেনে নেই কেমন হবে আপনার ঈদের রাতের সাজপোশাক।

১. বর্ষার কথা মাথায় রেখেই নির্বাচন করুন পোশাক। তবে নরম কাপড়েরর মধ্যে জমকালো কাজের পোশাক আপনি বাছাই করতে পারেন এ সময়।

২. মেকাআপের সময় প্রথমে মুখ ক্লিনজিং মিল্ক অথবা স্ক্রাব দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। এরপর ত্বকের ধরন অনুযায়ী Moisturizer/Astringent lotion লাগিয়ে নিন। কয়েক মিনিট পরে কোন ভালো মানের ম্যাট লিকুইড ফাউন্ডেশন লাগান। এর ওপর লুস পাউডার বুলিয়ে নিন।

৩. চোখ সাজাতে গাঢ় নীল, কালো অথবা ব্রোঞ্জ এর মত শেড দিতে পারেন। একে একে ভ্রু আঁকুন, চোখের ওপরের এবং নীচের পাতায় কাজল এবং মাস্কারা দিয়ে আপনার চোখের সাজ শেষ করুন।

৪. চেষ্টা করুন লিপস্টিক এবং ব্লাশনের রঙ কাছাকাছি রাখতে। ব্রাউন, পিচ অথবা পিঙ্ক হতে পারে আদর্শ চয়েজ।

loading...

৫. এ সময় চাইলে আপনি চুল খোলা রাখতে পারেন।

৬. গলায়, কানে এবং হাতে পরুন হালকা কোন গহনা। বাইরে ঘুরাঘুরির বাছাই করে নিতে পারেন ইমিটেশনের গহনা।

৭. খেয়াল রাখবেন আপনার জুতো জোড়া যেন আরামদায়ক হয়।

যেহেতু বর্ষাকাল তাই সব মিলিয়ে একটু বাড়তি সতর্কতা তো রাখতেই হবে। না হলে বৃষ্টিতে ভিজে সাজগোজ নষ্ট হয়েগেলে ঈদের আনন্দটাই মাটি হয়ে যাবে।

loading...