আমেরিকার ভিজিটর ভিসা অ্যাপ্লিকেশনের আদ্যোপান্ত-USA Multiple Visa(Step by Step)

স্কিলড মাইগ্রেশন ভিসায় কানাডা আসার পর থেকেই একটা প্ল্যান ছিল আমেরিকায় ঘুরতে যাবো। কানাডিয়ান সিটিজেনদের জন্যে আমেরিকা ঘুরতে যাবার ক্ষেত্রে কোন প্রকার ভিসার প্রয়োজন হয়না। কিন্তু কানাডিয়ান পারমানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে আমেরিকায় ঘুরতে যেতে হলে ভিজিটর ভিসার প্রয়োজন। আজকের এই লেখাটি মূলত: তাদের জন্যে যারা কানাডিয়ান পারমানেন্ট রেসিডেন্ট এবং আমেরিকার ভিজিট ভিসার জন্যে অ্যাপ্লিকেশন করতে ইচ্ছুক। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, আমি কোন ভিসা/ইমিগ্রেশন স্পেশালিস্ট নই এবং আমার এই লেখার কথাগুলো শুধুমাত্র আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতামাত্র।



পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, সাময়িকভাবে আমেরিকা ঘুরতে যাবার জন্যে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিজিটর ভিসার প্রয়োজন হয়। এই ভিসা দু’প্রকারের:
• Business Visitor Visas (B-1)
• Pleasure, Tourism, Medical Treatment – Visitor Visas (B-2)


আমার ক্ষেত্রে আমি Pleasure, Tourism, Medical Treatment – Visitor Visas (B-2) -তে অ্যাপ্লাই করেছিলাম। চলুন তাহলে ধারাবাহিকভাবে জেনে নেওয়া যাক আমেরিকার ভিজিটর ভিসার জন্যে অ্যাপ্লিকেশনের নিয়মাবলি:



স্টেপ-১
সব কিছুর আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ফেইসবুক পেইজে!!
অনুগ্রহ পুর্বক নিচের লাইক বাটনে ক্লিক করুন।

১. প্রথমেই আপনাকে Online Nonimmigrant Visa Electronic Application, Form DS-160 পূরণ করতে হবে। আপনার পাসপোর্ট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজাদি সাথে নিয়ে এই ওয়েবসাইটে ফরমটি পূরণ করা শুরু করুন। ফরমটি পূরণ করার সময় অনেক তথ্য আপনাকে দিতে হবে এবং এ জন্যে সময় প্রয়োজন। যদি একদিনে সব তথ্য আপনি দিতে না পারেন, তাহলে পরবর্তীতেও অসম্পূর্ণ ফরমটি পূরণ করতে পারবেন।
২. আপনি যে সময়ে আমেরিকা ভিজিট করবেন, তার কমপক্ষে দুই মাস আগে অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন করাটা ভালো।



৩. DS-160 পূরণকালীন সময়ে আপনার পাসপোর্ট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজাদি থেকে প্রাপ্ত তথ্যসমূহ ফরমে পূরণ করাটা খুব কঠিন কোন বিষয় নয়। তারপরেও নিম্নলিখিত কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইছি। যেমন:
ক. পাসপোর্ট বুক নম্বর: আমি নিজের ক্ষেত্রে এই ঘরটিতে কোন তথ্য পূরণ করি নাই। কারণ আমার বাংলাদেশি পাসপোর্টে আমি ’পাসপোর্ট বুক নম্বর’ বলে কোন কিছু খুঁজে পাই নাই।
খ. বাবার জন্ম তারিখ: আপনার বাবার জন্ম তারিখ উল্লেখ করুন।
গ. আপনার নিজের বিগত ৫ বছরের Work history বিস্তারিত উল্লেখ করুন। ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স যা উল্লেখ করবেন, সেগুলোর পেপার কপি আপনার কাছে অবশ্যই থাকতে হবে যা পরবর্তীতে ইন্টারভিউয়ের সময় সাথে করে নিয়ে যেতে হবে।
ঘ. আমেরিকায় আপনি কার কাছে যাবেন, তার বিস্তারিত তথ্য (নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, তার সাথে আপনার সম্পর্ক ইত্যাদি) আপনাকে ফরমে উল্লেখ করতে হবে।
ঙ. জাতীয়তা এবং ন্যাশনাল আই.ডি: এক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশী’ লিখুন এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক আপনাকে প্রদত্ত ন্যাশনাল আই.ডি কার্ড-এ (জাতীয় পরিচয়পত্রে) উল্লেখিত আই.ডি নম্বরটি লিখুন।




বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয়পত্র (ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

৪. অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন (DS-160) করার সময় আপনার ফটোগ্রাফের সফট কপির প্রয়োজন হবে যা অনলাইনে আপলোড করতে হবে। আমি নিজের ক্ষেত্রে ড্যানফোর্থ বাংলা পাড়ায় গিয়ে ’ঢাকা সফট’ থেকে ফটোগ্রাফের সফট কপি পেনড্রাইভে এবং দুই কপি হার্ড কপি সাথে করে নিয়ে এসেছিলাম। সেক্ষেত্রে আমার মাত্র ৫ ডলার খরচ হয়েছিল।
৫. অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন শেষ হবার পর আপনি একটি কনফার্মেশন পেজ পাবেন। এই পৃষ্ঠাটি আপনাকে প্রিন্ট আউট করে নিতে হবে। তৎক্ষণাৎ না পারলেও পরবর্তীতে আপনার ইমেইল অ্যাকাউন্ট থেকে আপনি সেটির প্রিন্ট নিতে পারবেন। এই কনফার্মেশন পেজটিতে একটি বার কোড থাকে। সুতরাং খুব ভালো প্রিন্টার থেকে প্রিন্ট করে নেয়াটাই ভালো।
৬. ইউ.এস.এ কেন যাবেন, তার খুব সংক্ষিপ্ত এবং সুনির্দিষ্ট কারণ আপনাকে উল্লেখ করতে হবে।


ডি.এস. ১৬০ ফরম পূরণ করার পর কনফার্মেশন পেজ (ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

স্টেপ-১ সম্পূর্ণ করার পর এখন আপনাকে স্টেপ-২ -তে যেতে হবে।


স্টেপ-২:
এই স্টেপে আপনাকে আপনার ভিসা অ্যাপ্লিকেশনের জন্যে পেমেন্ট দিতে হবে এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউল ঠিক করতে হবে। বি-২ ভিসার জন্যে অ্যাপ্লিকেশন ফি ১৬০ ইউ.এস. ডলার + ট্যাক্স যা কানাডিয়ান ডলারে আমার এসেছিল আনুমানিক ১৭৫ ডলার। স্টেপ-২ – এ যেতে হলে আপনাকে এই ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রথমেই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

loading…



রেজিস্টার করার পর আপনার অ্যাকাউন্টে লগ ইন করে আপনার কিছু বেসিক ইনফরমেশন দেবার পর পে-পাল/ ভিসা কার্ডের মাধ্যমে ভিসা ফি পে করে দিন। ফি পেমেন্ট করার পর পেমেন্ট কনফার্মেশনের কপি প্রিন্ট করে নিন।

ইন্টারভিউ পরবর্তী সময়ে আপনার পাসপোর্ট কোথা থেকে কালেক্ট করবেন, তা স্টেপ-২ তে উল্লেখ করতে হবে। আমি নিজের ক্ষেত্রে যে ঠিকানা সিলেক্ট করে দিয়েছিলাম (এবং পরবর্তীতে আমার নিজের পাসপোর্ট কালেক্ট করেছিলাম), সেটি হলো:

Loomis Branch Address:
95 Micro Court
Markham , ON
L3R5N1

’লুমিস’ হলো একটি ডেলিভারী কোম্পানী, যারা আপনার পাসপোর্ট ডেলিভারী দেবে। আপনি চাইলে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে আপনার পাসপোর্ট নিজের ঠিকানাতেও পাসপোর্ট ডেলিভারী নিতে পারেন। স্টেপ-১ এবং স্টেপ-২ পূরণ করার পর আপনি আপনার ই-মেইল অ্যাকাউন্টে ইউ.এস কনস্যুলেট থেকে প্রয়োজনীয় ই-মেইল পাবেন।

ইন্টারভিউ:
স্টেপ-২ – তে ইন্টারভিউ শিডিউল (তারিখ এবং সময়) অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনে আমেরিকান কনস্যুলেটে চলে যান। মনে রাখবেন, কোন প্রকার ইলেকট্রনিক ডিভাইস (সেল ফোন/ টেপ রেকর্ডার/ পকেট রেডিও/ পকেট গান শোনার যন্ত্র ইত্যাাদি) সাথে নেওয়া যাবেনা। আমার নিজের ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ শিডিউল ছিল সকাল ৮.৩০ -এ এবং নিচের ঠিকানায়:

loading...

Consulate Address: U.S. Consulate General Toronto
225 Simcoe Street
Toronto, Ontario
M5G 1S4
Canada

ইন্টারভিউ-এর দিনে যে কাগজপত্রগুলো অবশ্যই নিয়ে যাবেন:
১. আপনার পাসপোর্ট যা ইউ.এস ভিসায় অ্যাপ্লিকেশন করার সময় পাসপোর্টের মেয়াদ নূন্যতম ৬ মাস আছে।
২. কানাডিয়ান পারমানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ডের মূল কপি
৩. স্টেপ-১ এর কনফার্মেশন পেজ এর প্রিন্ট আউট (বার কোড সহ)
৪. স্টেপ-২ এর ভিসা পেমেন্ট ফিস এর প্রিন্ট আউট

অন্য যে কাগজগুলো সাথে নিয়ে যাবার পরামর্শ দিব:
১. ফটোগ্রাফ (হার্ড কপি) – ২ টা
২. আপনি যদি কানাডিয়ান কোন বিশ্ববিদ্যালয়/ কলেজের ছাত্র হন, তাহলে সেমিস্টার এনরোলমেন্টের প্রিন্ট আউট এবং অফার লেটার
৩. আপনি যদি ওন্টারিও স্টুডেন্ট অ্যাসিস্টেন্টশিপ প্রোগ্রাম (ওসাপ) -এ থাকেন, তাহলে ওসাপ থেকে প্রাপ্ত চিঠির কপি।
৪. ব্যাংক স্টেটমেন্ট – চেকিং অ্যাকাউন্ট (বিগত ১ বছরের)
৫. আপনি যদি বর্তমানে কর্মরত থাকেন অথবা পূর্বে কাজ করে থাকেন, তাহলে কর্মস্থল থেকে প্রাপ্ত এক্সপেরিয়েন্স লেটার অথবা পে-চেক
৬. ট্যাক্স রিটার্ন পেপার
৭. ল্যাণ্ডিং পেপার
৮. সিন কার্ড
৯. ড্রাইভার্স লাইসেন্স
১০. হেল্থ কার্ড
১১. আমেরিকা থেকে (যদি) প্রাপ্ত কোন অফার লেটার (বন্ধুর বিবাহ প্রোগ্রাম-এ উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণপত্র/ হাসপাতালে ভর্তি আছে এমন রোগীকে দেখতে যাবার আমন্ত্রণপত্র ইত্যাদি)
আরও জানতে VIDEO টি দেখুন.চানেলটি SUBSCRIBE করতে ভুলবেননা PLEASE::

loading...