ঢাবি অধ্যাপক শাহাদৎ হোসাইনের বরখাস্তের আদেশ অবৈধ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহাদৎ হোসাইনকে বরখাস্তের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে শাহাদৎ হোসাইনকে স্বপদে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি তারিক-উল হাকিম ও বিচারপতি মো: ফারুকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক ও তাহসিনা তাসনিম মৃদু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম।

এর আগে গত ৭ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: শাহাদৎ হোসাইনকে বরখাস্তের আদেশের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। তিন সপ্তাহের মধ্যে ঢাবির উপাচার্য, সিন্ডিকেট, রেজিস্ট্রার ও ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের জুলাই মাসে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দুই ছাত্রী তাদের মাস্টার্সের রেজাল্ট প্রকাশিত হওয়ার পর ওই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহাদৎ হোসাইনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে চলতি বছরের ৬ মার্চ তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সিদ্ধান্তে বলা হয়, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দুই ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ সত্য। ছাত্রীদের সঙ্গে ড. শাহাদৎ হোসাইনের এই আচরণ স্পষ্টতই নৈতিকস্খলন, যা গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই সর্বসম্মতিক্রমে তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সেই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন ড. মো: শাহাদৎ হোসাইন।

ব্যারিস্টার তাহসিনা তাসনিম মৃদু বলেন, ড. শাহাদৎ হোসাইনকে বরখাস্তের আগে কোনো ধরনের শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়নি। এমনকি তাকে নিজের পক্ষে কোনো যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ না দিয়েই বরখাস্ত করা হয়েছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের লঙ্ঘন। তিনি বাধ্যতামূলক ছুটিতে ছিলেন। এ অবস্থায় বরখাস্ত করা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের পরিপন্থী। এসব যুক্তিতে রিটটি করা হয়।

loading...