বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছি আমরা?

শুধু বাংলাদেশেই নয়, সব দেশেই বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থার সর্বোচ্চ পর্যায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর লক্ষ্য জ্ঞানের উদ্ভাবন ও তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চালন করা এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। আমাদের ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে বলা আছে- বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর লক্ষ্য : to ‘transmit and innovate knowledge and groom efficient manpower’। তবে একটি কথা স্বীকার করতেই হবে- শিক্ষকেরাই জ্ঞান বিতরণে ও উন্নততর গবেষণার মাধ্যমে জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার অগ্রসৈনিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন শিক্ষাদান ও যুগের উপযোগী দক্ষ করে তোলার কাজটি পুরোপুরি নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর। শিক্ষকেরা যদি যথাযথভাবে জ্ঞানসমৃদ্ধ তথা প্রজ্ঞাসম্পন্ন না হন, তাহলে তাদের পক্ষে শিক্ষার্থীদের কাক্সিক্ষত শিক্ষাদান কিছুতেই সম্ভব নয়। আমাদের জাতীয় শিক্ষানীতিতে বলা আছে এসব বিষয়ের ওপর যথাযথ গুরুত্ব দিতে। বলা আছে, যথাযথ যোগ্য শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দিতে এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের পেশাগত উৎকর্ষতা বাড়ানোর ব্যাপারে। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে চলে সীমাহীন অনিয়ম। এ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। আমরা বিভিন্ন সময়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের কথা গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, বিভিন্ন সমীক্ষা সূত্রে জানতে পারি। এসব রিপোর্ট বা প্রতিবেদন মতে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চরম অনিয়মের কারণে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ চলতে পারে না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব মুখ্য বিবেচ্য হয়ে দাঁড়ায়। শিক্ষকদের বিভিন্ন গ্রুপ এমন শিক্ষক নিয়োগ দিতে তৎপর থাকে, যাতে তাদের গ্রুপের সমর্থক বাড়ে।

এ সত্যেরই প্রতিফলন রয়েছে, গত শুক্রবারের একটি প্রথম শ্রেণীর জাতীয় দৈনিকের শীর্ষ সংবাদে। এই প্রতিবেদনের শিরোনামে উল্লিখিত তথ্যমতে, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে ৮ বছরে ৯০৭ শিক্ষক নিয়েগ : অনুগতদের নিয়োগ দিতেই অনিয়ম’। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়Ñ দলীয় রাজনীতির কারণে এবং উপাচার্যের পছন্দের ব্যক্তিকে শিক্ষক নিয়োগ দিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করার পাশাপাশি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এমনকি বিজ্ঞপ্তি ছাড়া ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি না থাকা প্রার্থীরাও নিয়োগ পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের গত তিন বছরের মধ্যে এবং নতুন বিভাগগুলোয় শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে সবচেয়ে বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারপন্থী নীল দলের শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে বর্তমান উপাচার্যে নেতৃত্বে প্রশাসনিক ক্ষমতায় থাকা অংশটি নিজেদের পছন্দ ও অনুগত শিক্ষকদের সংখ্যা বাড়াতে অনেক অনিয়ম করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি আরো জানিয়েছেÑ বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংখ্যা ১৯৯২। এর মধ্যে উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিকীর সাড়ে আট বছরে মোট ৯০৭ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে শেষ তিন বছরে নিয়োগ পেয়ছেন ৩৫০ জন। শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে এবং যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে অন্তত আটজনকে এবং ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ না করেই দুই বিভাগে নিয়োগ পেয়েছেন ১০ জন। আর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত সংখ্যার চেয়ে দুই বা ততোধিক অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার ঘটনা ঘটেছে ৪১ জনের ক্ষেত্রে। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ছাড়াই নিয়োগ পেয়েছেন অন্তত তিনজন।

জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে এমন অনিয়মের ঘটনায় শিক্ষক, সিন্ডিকেটের কোনো কোনো সদস্য লিখিতভাবে এর প্রতিবাদও জানিয়েছেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগে ন্যূনতম যোগ্যতা ছাড়াই ছয় শিক্ষককে নিয়োগ না দিতে সিন্ডিকেটের কয়েকজন শিক্ষক অনুরোধ জানান। কিন্তু এতে কোনো কাজ হয়নি। শিক্ষকদের একটি অংশের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের কমিটিতে বর্তমান উপাচার্য ও প্রশাসনের শক্ত অবস্থান থাকায় সব সিদ্ধান্তই সহজে পাস হয়ে যায়।

এ দিকে আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের নীল দল থেকে নির্বাচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ এস এম মাকসুদ কামাল একটি জতীয় দৈনিকের প্রতিনিধিকে বলেন, শিক্ষক নিয়োগের এমন হাল দেখে তার মতো অনেক শিক্ষকই উদ্বিগ্ন। এ নিয়ে উপাচার্যকে অনেক শিক্ষকই বিভিন্ন সময় বলেছেন। সিন্ডিকেটেও বলা হয়েছে। কিন্তু উপাচার্য শুনতে চাইছেন না। মাকসুদ কামাল বলেন, ‘আমি উপাচার্য স্যারকে বলেছিলাম, স্যার, আমি-আপনি একসময় এই ক্যাম্পাসে থাকব না। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে। শিক্ষক নিয়োগ যদি এ রকম হয়, তাহলে আমরা কাদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয় রেখে যাচ্ছি তা ভাবা দরকার।’

জাতীয় দৈনিকটির অনুসন্ধানী এই প্রতিবেদনটি সুদীর্ঘ। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের নানা উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর বিস্তারিতে যাওয়ার কোনো অবকাশ এ লেখায় নেই। তবে প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, একই দিনে আরেকটি প্রথম শ্রেণীর জাতীয় দৈনিকেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ম ভেঙে শিক্ষক নিয়োগ সম্পর্কিত একটি খবর ছাপা হয়েছে। ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ম ভেঙে ৫০ শিক্ষক নিয়োগ দুই বছরেই’ শিরোনাম সংবলিত খবরে এই দৈনিকটি উল্লেখ করেছে- নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত ছিল মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সবক’টিতে প্রথম শ্রেণী থাকতে হবে। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকের শর্ত পূরণ না করেও এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষক দিদারুল আলম। একই বিভাগের একই সময়ে নিয়োগ পাওয়া মোহসিন রেজাও মাধ্যমিকের শর্ত পূরণ করতে পারেননি। এ ছাড়া অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ইব্রাহিম মিয়া স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্বের শর্ত পূরণ করতে না পারলেও তিনি এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। এই বিভাগে দু’টি শূন্যপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিলেও আইন ভেঙে নিয়োগ দেয়া হয় পাঁচজনকে। একইভাবে ২০১৬ সালে ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগে নিয়ম ভেঙে চারটি পদের বিপরীতে নিয়োগ দেয়া হয় ৯ জনকে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণী থাকার শর্ত দেয়া হলেও এই ৯ জনের তিনজন স্নাতকোত্তর পাসই করতে পারেননি। আরো জানা গেছে, ন্যূনতম যোগ্যতাও পূরণ করতে পারেননি, এমন অন্তত ৫০ জন শিক্ষককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে দেড় থেকে দুই বছরে। আবার নিয়ম লঙ্ঘন কিংবা বিজ্ঞাপনের শর্ত ভেঙেও নিয়োগ দেয়া হয়েছে কাউকে কাউকে।

এই রিপোর্টটিও সুদীর্ঘ। যারা রিপোর্ট দু’টি আগাগোড়া পড়েছেন তারা উদ্বিগ্ন হবেন, এমনটি স্বাভাবিক। কারণ, আমাদের জাতীয় গর্বের ধন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আজ এ কী হাল! আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছি। আমরা যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত সব ঐতিহ্য হারাতে বসেছি তা আন্দাজ-অনুমান করা খুব কঠিন কিছু নয়। বিশৃঙ্খলা যে চার দিকে ছড়িয়ে পড়ছে তাও আন্দাজ করা যায়। গত শুক্রবারের আরেকটি জাতীয় দৈনিকের শীর্ষ সংবাদটির শিরোনাম ছিল এমন : ‘উপচার্য নিয়োগে নিয়ম না মানার প্রবণতা’। এই প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয় : দেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক নিয়ম না মানার প্রবণতা দীর্ঘ দিনের। ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী ঢাকা, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত উপাচার্য প্যানেল থেকে উপাচার্য নিয়োগ পাওয়ার কথা। কিন্তু সব সময় সিনেট নির্বাচনের মাধ্যমে প্যানেল তৈরিতে ব্যর্থ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এ ছাড়া প্যানেল তৈরি হলেও এ ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম হয় এমন অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদন মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত কয়েক টার্মে নিয়োগে নিয়ম মানা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরামপূর্ণ সিনেট অধিবেশনে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের কথা। কিন্তু গত তিন টার্ম উপাচার্য আইন যথাযথভাবে মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী সিনেটের মোট সদস্য ১০৫ জন। এর মধ্যে থাকবেন উপাচার্য, দুইজন সহ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, সরকার মনোনীত পাঁচজন সরকারি কর্মকর্তা, জাতীয় সংসদের স্পিকার মনোনীত পাঁচজন সংসদ সদস্য, আচার্য মনোনীত পাঁচজন শিক্ষাবিদ, সিন্ডিকেট মনোনীত পাঁচজন গবেষক, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল মনোনীত অধিভুক্ত কলেজের পাঁচজন অধ্যক্ষ ও দশজন শিক্ষক, ২৫ জন নির্বাচিত রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট, ৩৫ জন নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধি এবং ডাকসু মনোনীত পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধি।

সাবেক উপাচার্য বলেছেন, বঙ্গবন্ধু-উত্তর সময়ে এমনকি এরশাদ সরকারের সময়েও সিনেট পূর্ণ ছিল। গণতান্ত্রিক সরকারের সময় ১৯৯৬ সালে সিনেট অধিবেশনে ৭৮ জন উপস্থিত ছিলেন, ২০০৪ সালে ছিলেন ৮৫ জন। ২০০৯ সালে অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক সাময়িক সময়ের জন্য উপাচার্য হন। কিন্তু চার বছর মেয়াদি এই পদ তিনি চার বছর সাত মাস পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান। এরপর ২০১৩ সালে ২৪ আগস্ট রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েটদের প্রতিনিধি নির্বাচন এবং সব মনোনীত পদ পূরণ না করেই সিনেট অধিবেশন ডাকেন বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক। যে সিনেটে ১০৫ জন থাকার কথা সেখানে ছিলেন ৩৬ জন।

এ দিকে গত ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের জন্য সিনেট অধিবেশন বসে। সিনেটের মোট সদস্যসংখ্যা ৫৫ জন। সিনেটে ৫০টি পদ শূন্য থাকে। এদের মধ্যে রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট ২৫ জন, পাঁচজন গবেষণা সংস্থার প্রতিনিধি, পাঁচজন অধিভুক্ত ও উপাদানকল্প কলেজের অধ্যক্ষ প্রতিনিধি, অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের মনোনীত ১০ জন ও ডাকসু মনোনীত পাঁচজন ছাত্র প্রতিনিধির পদ শূন্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রায় ১০০ কলেজ থাকা সত্ত্বেও সেখান থেকে ১৫ জনকে মনোনীত করতে দেয়া হয়নি। একইভাবে ৪৪ হাজার রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েটের মধ্যে ২৫ জন প্রতিনিধি রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন আয়োজন করেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট প্রতিনিধিদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলেই রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট প্রতিনিধিসহ অন্যান্য শ্রেণীর প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারত। কিন্তু প্রশাসন সে পথে না গিয়ে অনেকটা একতরফাভাবে তিনজনের প্যানের নির্বাচন করে। এ দিকে ১৫ জন রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েটের করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে তিন সদস্যের আপিল বেঞ্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সদস্যের উপাচার্য প্যানেলের কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। একই সাথে গত ২৯ জুলাই সিনেট বৈঠক নিয়ে হাইকোর্টের জারি করা রুল আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আর রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান উপাচার্যই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও গত ২৫ বছর ধরে সিনেট নির্বাচন ছাড়াই উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সিনেট উপাচার্য মনোনয়ন দেবে, সে সিনেটকেই করে রাখা হয়েছে অকার্যকর। ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ অমান্য করে ২৫ বছর ধরে ক্ষমতাসীন দলগুলো পছন্দের ব্যক্তিকেই উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আসছে। গত ১৬ বছর ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে নিয়ম ভাঙা হয়েছে। উপাচার্য নিয়োগে অনিয়ম চলেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও।

এই অনিয়মের ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নানামাত্রিক দ্বন্দ্ব-সঙ্ঘাত লেগেই আছে। পড়াশোনার মানে চলছে ক্রমাবনতি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মানের ক্রমাবনতির কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও ধরে রাখতে পারছে না এর অতীত ঐতিহ্য। দেশের প্রতিটি মানুষ চায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সার্বিক সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসুক। সবকিছুই চলুক নিয়ম আর নৈতিকতার গণ্ডির ভেতরে থেকে। কারণ, রাজনৈতিক দলবাজির খেসারত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক দিয়েছে। এবার এর অবসান হওয়ার পালা।

loading...
loading...