৯১ ছাত্রছাত্রীকে যৌন নির্যাতন : প্রধান শিক্ষকের নজিরবিহীন সাজা

স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের উপর যৌন অত্যাচার চালানোর অভিযোগে ভারতের একটি সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ৫৫ বছরের হাজতবাসের নির্দেশ দিল আদালত। তাকে মোটা অঙ্কের জরিমানাও দিতে হবে। তার লালসার শিকার হয়েছে যারা, তাদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে সেই টাকা। মাদুরাইয়ের একটি বিশেষ আদালত এই বেনজির নির্দেশ দিয়েছে।

পিছিয়ে পড়া গ্রাম পোধুম্বুর একটি স্কুলে প্রধান শিক্ষক এস আরোকিয়াস্বামী। ছেলে ও মেয়ে মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে ৯১ জন ছাত্রছাত্রীর উপর যৌন অত্যাচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে। নজিরবিহীন রায়ে বিচারপতি আর সন্মুগাসুন্দরম জানিয়েছেন, ভারতীয় দণ্ডবিধির নানা ধারায় ও তামিলনাড়ুর মহিলাদের হেনস্থা করার আইনে প্রধান শিক্ষক আরোকিয়াস্বামীকে ৫৫ বছরের হাজতবাস দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও তাকে ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। তার লালসার শিকার ২২ জন দলিত ছাত্রীর মধ্যে সেই টাকা ভাগ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি।

সরকারি আইনজীবী পি পরিমালাদেবী জানিয়েছেন, ‘এসসি/এসটি’দের জন্য বিশেষ আদালত অভিযুক্তকে ৫০ বছরেরও বেশি মেয়াদের হাজতবাস দিচ্ছে এবং অভিযুক্তের দেওয়া জরিমানা আক্রান্তদের মধ্যে বণ্টন করার নির্দেশ দিচ্ছে, এমন ঘটনা এ দেশে প্রথম ঘটল।’

প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের ও যৌন নিগ্রহ চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ। এরমকই এক শিশুর বাবা-মা সাহস করে সাত বছর আগে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনায় আর যে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের অপরাধে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছিল, তাদের বেকসুর খালাস করে দিয়েছে আদালত। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

ধর্ষণ করতে গিয়ে লিঙ্গচ্ছেদ হলো ধর্মগুরুর

ধর্ষণের চেষ্টা করায় হিন্দু ধর্মগুরুর লিঙ্গ কেটে দিয়েছেন এক ভারতীয় নারী (২৩)। ওই নারী ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কেরালার বাসিন্দা। আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন ওই নারী।

তার অভিযোগ, তাকে তার নিজ বাড়িতে ধর্ষণের চেষ্টা করেন ৫৪ বছর বয়সী ধর্মগুরু। তখন আত্মরক্ষা করতে তার লিঙ্গ কেটে দেন তিনি। পুলিশের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে আল-জাজিরা।

খবরে বলা হয়, জেলা পুলিশ প্রধান জি স্পারজান কুমার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ওই নারীর বাবা মারা যাওয়ার পর তার বাড়িতে শাস্ত্রীয় আচার পালন করতে বেশ কয়েকবার গেছেন অভিযুক্ত ধর্মগুরু। তিনি আরো বলেন, ওই নারীর দাবি, ওই লোক কয়েক বছর ধরে তার উপর যৌন আক্রমণ চালাচ্ছিল।

এবারের চেষ্টার সময় আত্মরক্ষার জন্য একটি ছুরি ব্যবহার করে আক্রমণকারীর লিঙ্গ ছিন্ন করেন তিনি। পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য, ওই নারী নিজের আত্মরক্ষার জন্য একটি ছুরি ব্যবহার করেছেন ও ধর্মগুরুর লিঙ্গচ্ছেদ করেছেন। ঘটনার পর নিজেই পুলিশকে ফোন করেন ওই নারী। পরে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন আক্রমণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ২২ মে ২০১৭

loading...