চায়না থেকে পণ্য আমদানীর ব্যবসা শুরু করবেন যেভাবে

চায়নার বাজার থেকে পণ্য কিনে খুব সহজেই আপনি আমদানি ব্যবসায় যুক্ত হতে পারেন। সুলভ মূল্যের কারণে সারা বিশ্বে চীনা পণ্যের চাহিদা অনেক বেশি। জুয়েলারি থেকে শুরু করে নানা রকম বিচিত্র পণ্যের সম্ভার আছে দেশটিতে।



১. প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিন আপনি কোন পণ্যটি পাইকারি বা হোলসেল আকারে কিনতে চান। যে পণ্যটি কিনতে চাচ্ছেন, সেটার মান কেমন সে ব্যাপারে নিশ্চিত হন। অনলাইনে খোঁজ করুন, দেখুন পণ্যের রিভিউ আছে কিনা। চায়নার আমদানি-রপ্তানি ব্যবসাক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি অনুসারে এই মূহুর্তে যাবতীয় শিশুখাদ্য পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকুন। কিন্তু খেলনা বা শিশু ব্যবহার্য পণ্য হলে সমস্যা নেই। এমন একটি পণ্য নির্বাচন করুন যা বেচা-কেনা করতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। মানুষের কাছে পণ্যটির চাহিদার ব্যাপারটিও বিবেচনায় রাখুন।


২. নিজে নিজে কিছু প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিন। যেহেতু আপনি দূরে থেকে পন্য ক্রয়ের ব্যাপারটি পরিচালনা করবেন, সেহেতু আগে থেকেই নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানটির অর্থনীতি এবং পরিবহন ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন। সবচেয়ে সহজ উপায় অনলাইনে সার্চ করা।


৩. প্রাথমিকভাবে এলসি ছাড়া আপনার ব্যবসায় সাহায্য করতে পারবে এমন কোন আমদানিকারকের সাথে ব্যবসায়ীক সম্পর্ক গড়ে তুলুন। এতে পণ্যের দাম পরিশোধ থেকে শুরু করে পণ্য নিয়ে আসার সুবিধা হবে। আবার, নিজে যদি টাকা পরিশোধ করতে চান তবে অনেক চাইনিজ কোম্পানি আছে যারা ব্যাংক বাদে অনলাইনে যেমন, ক্রেডিট কার্ড, মানি বুকারর্স(Skrill), পেপাল ইত্যাদির মাধ্যমে অর্থ গ্রহন করে। এমন হলে, দেশে ডলার কিনে অনলাইনের মাধ্যমে চাইনিজ কোম্পানিকে পরিশোধ করতে পারেন। এক্ষেত্রে পণ্য আপনার হাতে কীভাবে আসবে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয় দরকার।



যদি আপনি alibaba.com এর মাধ্যমে ঐদেশের কোন কোম্পানিকে নির্বাচন করেন। তবে এতে অনেক সমস্যার সমাধান হবে। কারন, এখানে কোম্পানিগুলোর ভেরিফিকেশনের ব্যবস্থা আছে ও এটা নির্ভরযোগ্য। ফলে, এমন কোম্পানিকে অনলাইনে অর্থ পরিশোধ করলে সমস্যা হবার কথা নয়।



নমুনা হিসেবে খুব কম পণ্য আনতে চাইলে (যা আসলে গিফটের পর্যায়ে পড়ে), তবে লক্ষ্য রাখবেন, পণ্য যেন সরকারি সার্ভিসে আসে। তা না হলে, DHL বা UPS-এ আসলে ট্যাক্স হিসেবে আপনাকে অনেক টাকা গুনতে হবে। আর যদি মাঝারি বা পেশাদারভাবে কাজটি করতে চান তবে আপনাকে অবশ্যই এলসির মাধ্যমে যেতে হবে।
যাইহোক, অনেক সময়ই পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের একজন প্রতিনিধি আমদানিকারকদের যাবতীয় সহায়তা প্রদান করে থাকে। আপনিও যদি কোন প্রতিনিধি নিয়োগ করতে চান তবে তাকে অবশ্যই চায়নার ব্যবসাক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অন্যের উপর ভরসা না করে নিজে পরিশ্রম করা উচিৎ।

loading…



৪. নমুনা হিসেবে পাওয়া পণ্যের মান, আপনার বা কাষ্টমারদের চাহিদা মোতাবেক হলো কিনা সেটি নিশ্চিত হলে, বেশি পণ্যের জন্য অর্ডার দিন। এক্ষেত্রে আপনাকেও কিছু অর্থ আগাম পরিশোধ করতে হতে পারে। নির্ভরযোগ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে আগাম টাকা পরিশোধ করলে সমস্যা নেই, তবে প্রতিষ্ঠান যদি নির্ভরযোগ্য না হয় তবে আপনার টাকাও উধাও হয়ে যেতে পারে। কারণ চায়নাতেও ঠগ-বাটপারের কমতি নেই।



৫. নিজে যদি সেলস-মার্কেটিং (যা প্রাথমিক অবস্থায় ব্যয়বহুল) করতে না চান, তবে এবার দেশে খুচরা পরিবেশকের সন্ধান করুন। বাড়তি স্টোরেজ ফি, সেলস কস্ট এড়াতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমদানিকৃত পণ্য খালাস করুন। পণ্য আমদানি করার সাথে সাথেই স্থানীয় ক্রেতাদের সাথে কেনা-বেচার কাজটি সেরে নিন।



৬. বেশ কিছু পণ্যের ফরমায়েশ পাওয়ার পর পণ্যগুলো নিয়ে একটু গবেষণা করুন। পণ্য ক্রয়-বিক্রয় থেকে আপনি কতটুকু লাভ করছেন সেই হিসাব রাখুন। কি ধরনের পণ্য আমদানী করলে আপনার লাভের ধারা বজায় থাকবে তা নিয়ে চিন্তা করুন।


অনেকেই হয়ত মনে করেন, চায়না থেকে পণ্য আমদানী খুব কঠিন কিছু বিষয়। তা আসলে মোটেই নয়। এর জন্য আপনাকে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ও ইমেইল এর সহায়তা নিতে হবে যোগাযোগের জন্য। একটু মাথা খাটালেই এবং পূর্বে যারা চায়নার সাথে ব্যবসা করছে তাদের কাছ থেকে পরামর্শ ও যেকোন বুদ্ধির সহযোগিতা নিলেই দেখবেন আপনি হয়ে উঠছেন একজন সফল আমদানিকারক।

লেখাটি ভাললাগলে কিংবা উপকারে আসলে শেয়ার করে অপরকে জানান।

আরও জানতে VIDEO টি দেখুন.চানেলটি SUBSCRIBE করতে ভুলবেননা PLEASE::

loading...