সুনামগঞ্জে গরু বিক্রি হচ্ছে পানির দামে! কিন্তু কেন? জানুন বিস্তারিত

পাবনা সিনিওর রিপর্টার: রুবেন

সুনামগঞ্জে সব ধরনের ফসল পানিতে তলিয়ে ধ্বংস হওয়ায় হাওর অঞ্চলের কৃষক এবং তাদের পরিবার-পরিজনরা দুঃসহ জীবন-যাপন করছেন। কার্যত সর্বস্ব হারিয়ে কৃষকের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। এ অবস্থায় বিপদ হয়ে দেখা দিয়েছে গবাদি পশু। খাদ্য না থাকায় এসব পশু এখন পানির দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সব কিছুর আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ফেইসবুক পেইজে!!
অনুগ্রহ পুর্বক নিচের লাইক বাটনে ক্লিক করুন।

হাওরের গৃহস্থ পরিবার আর বর্গাচাষিরা বছরের একটিমাত্র ফসল বোরো ধান হারিয়ে এখন অর্থনৈতিকভাবে চরম বেকায়দায় পড়েছেন। ফসল উৎপাদন করতে গিয়ে একদিকে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে পরিবারের ভরণপোষণ- দুয়ে মিলে চোখে অন্ধকার দেখছেন তারা। টানা দুই বছর ফসলহানির কারণে কৃষিনির্ভর এই দুই শ্রেণির মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।


 

 

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে প্রাথমিক ধাক্কা এসে পড়েছে গৃহপালিত পশুর ওপর। ধান তলিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দৈনন্দিন নানা প্রয়োজন মেটাতে এবং ঋণ শোধ করতে হাওরাঞ্চলে গরু-ছাগল বিক্রির ধুম পড়েছে। একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ পশু বিক্রি হওয়ার কারণে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ফসলহারা কৃষকরা।

 

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে প্রাথমিকভাবে গৃহস্থ পরিবারগুলো তাদের হালচাষের গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি বিক্রি করতে শুরু করেছে। গত বৃহস্পতিবার ধর্মপাশা পশুরহাটে অন্য সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি পশু বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন কৃষকরা।


 

 

মধ্যনগর থানার বড় শেখপাড়া গ্রামের আবদুস সালাম জানান, ফসল তলিয়ে যাওয়ার কারণে বাজারে নিয়ে হাল চাষের দুটি গরু বিক্রি করেছেন। পনের দিন আগেও যেগুলোর দাম ৭৫ হাজার টাকা ছিল সেগুলো বাধ্য হয়ে এখন ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।


loading...

 

 

তিনি বলেন, ‘ঋণের টাকা শোধ আর পরিবার চালাতে আমার কাছে আর কোনো বিকল্প ছিল না।’ মধ্যনগর বাজারের ব্যবসায়ী আশরাফ উদ্দিন হিল্লোল বলেন, ‘হাওরের ধান তলিয়ে যাওয়ার পর থেকে প্রতিদিন শত শত নৌকা বোঝাই করে গৃহস্থরা তাদের গবাদিপশু বিক্রির জন্য নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন পশুরহাটে নিয়ে যাচ্ছেন। ’

 

 

ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর সুনামগঞ্জে চালের বাজারে আকস্মিক যে মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে তা এখনো অব্যাহত আছে। প্রশাসনের নির্দেশের পরও মোটা চাল ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

loading…



 

 

জানা গেছে, জেলায় আবাদকৃত দুই লাখ ৩০ হাজার হেক্টর বোরো জমির মধ্যে সরকারি হিসাবে তলিয়ে গেছে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল। বেসরকারি হিসেবে এই পরিমাণ পৌনে দুই লাখ হেক্টরের মতো হবে।


সব কিছুর আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের ফেইসবুক পেইজে ।।
আরও জানতে VIDEO টি দেখুন.চানেলটি SUBSCRIBE করতে ভুলবেননা PLEASE::

loading...