প্রতিযোগিতা নাকি শুধুই ধারাবাহিকতা

প্রতিযোগিতা নাকি শুধুই ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। এমন কথা শোনা গেছে এম এ আজিজস্টেডিয়ামের দর্শক মহলে। এর কারণ, বেশ অল্প সময়ের মধ্যেই চট্টগ্রামে ৩টি ফুটবল টুর্নামেন্টশুরু ঘোষনা দেয়া হয়েছে। আবার এ ৩টি ঘোষনা এসেছে, ৩টি পৃথক পৃথক সংগঠন থেকে। এন্ট্রিওহয়তো শেষের পথে। এখন চলছে, চট্টগ্রাম তৃতীয় বিভাগ ফুটবল লীগের খেলা। ঘোষিত ৩টি আসরহচ্ছে, চট্টগ্রাম মহানগরী ক্রীড়া সংস্থার কিশোর ফুটবল, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার স্কুল ফুটবলএবং চট্টগ্রাম জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের কিশোর ফুটবল টুর্নামেন্ট। এর মাঝে চট্টগ্রামমহানগরী ক্রীড়া সংস্থার কিশোর আয়োজন দামপড়া পুলিশ লাইন মাঠে এবং বাকি ২টির খেলা এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবার কেউ কেউ বলছেন, প্রতিযোগিতা হোক বাধারাবাহিকতাই হোক, যত বেশি আয়োজন হবে ততই খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে। তবে আয়োজনটাহতে হবে সুষ্ঠভাবে। এখানে আরো একটি ব্যাপারে আয়োজকদের হিমশিম খেতে হবে। তা হলো, বয়স এবং স্কুলছাত্র কিনা, সেটা বুঝে নিতে। প্রত্যেক বছর এ ধরণের আয়োজনে বিভিন্ন ধরণের ছল–ছাতুরী’র আশ্রয় নেয়া হয়। যেমন ১৭/১৮ বছরের ছেলেদের ১৫ বছর বানিয়ে এবং অ–ছাত্রকে ছাত্রপ্রমান করে স্কুল ফুটবলে খেলানো হচ্ছে। চট্টগ্রামের বাইরের খেলোয়াড়দেরও হারমেশাই খেলতেদেখা যায়। এটাকে রোধ করতেই হবে, না হলে পুরো আয়োজনই হবে ‘শুধুই ধারাবাহিকতা’। চট্টগ্রামমহানগরী ক্রীড়া সংস্থার অনুর্ধ্ব–১৪ বছর এবং ৫ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতার এই টুর্নামেন্ট অনেক বছরধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে জৌলুশ হারিয়েছে বহু আগে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার স্কুল ফুটবলওনিয়মিত নয়। জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের আয়োজনও প্রত্যেক বছর অনুষ্ঠিত হয় না।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে, জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সম্পাদক আনম ওয়াহিদ দুলালবলেন, খেলোয়াড় সৃষ্টির লক্ষেই আমাদের এই কিশোর ফুটবলের ২য় আয়োজন। যতবেশিবয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টের আয়োজন করা যাবে, ততবেশি খেলোয়াড় তৃণমুল পর্যায় থেকে বেরিয়েআসবে এবং আমার বিশ্বাস সেদিকেই পুরো দেশের ক্রীড়া সংগঠকদের নজর দেয়া উচিত। তিনিবলেন, ইতিমধ্যে সিজেকেএস–সিডিএফএ অনুমোদিত ১০টিও বেশি দল টুর্নামেন্টে নাম দাখিলকরেছে, আরো কয়েকটি দল যোগাযোগ করছে। আশাকরি আসছে কোবরানী ঈদের পরেই এটুর্নামেন্ট শুরু করবো।
চট্টগ্রাম মহানগরী ক্রীড়া সংস্থা’ই প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে কিশোর ফুটবলের আয়োজন করেপ্রায় ১০/১২ বছর আগে। এক সময় তারা খালি পায়ে খেলতো এই টুর্নামেন্টে। কিন্তু বাংলাদেশেরজীবন্ত কিংবদন্তী ফুটবলার চট্টগ্রামের আশীষ ভদ্র’র ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত কিশোরফুটবলে বুট পড়ে খেলাটা বাধ্যতামুলক করা হয়। উল্লেখ্য আশীষ ভদ্র চট্টগ্রাম মহানগরী ক্রীড়াসংস্থার যুগ্ম সম্পাদক এবং ফুটবল কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান। সংস্থার ক্রীড়াপ্রেমী সাধারণসম্পাদক প্রফেসর শায়েস্তা খান বলেন, আমরা কিশোর’র আগে ৮০ দশকে পাইওনিয়ার ফুটবলটুর্নামেন্টের আয়োজন করি। সেবার রেকর্ড ৬৮টি দল ঐ টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিল। এই টুর্নামেন্টচট্টগ্রাম থেকে ফরহাদ, আসাদ, আনোয়ার ও কায়সারসহ বেশ কয়েকজন জাতীয় ফুটবলারের জন্মদিয়েছে। একেবারে খাঁটি কথা। তখন পাইওনিয়ার ফুটবল ছিল চট্টগ্রামের ফুটবল শুরুর প্রাথমিকস্তর। এরপর সেখান থেকে ছেলেরা ২য় বিভাগ এবং পর্যায়ক্রমে প্রথম বিভাগ ও প্রিমিয়ারে অংশনিয়েছে। কিন্তু এখন পাইওনিয়ারের আগে ছেলেরা কিশোর লীগ দিয়ে খেলোয়াড়ী জীবন শুরুকরতে পারছে। সংস্থার ফুটবল সম্পাদক শামীম আজাদ খোকন বলেন, ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটিদল নাম এন্ট্রি করেছে। আশা করছি আরো কয়েকটি দল অংশ নেবে এবং তাদের নিয়েই কোরবানীঈদের পরেই এ টুর্নামেন্ট শুরু করার চিন্তা ভাবনা করা রয়েছে। উল্লেখ্য মহানগরী ক্রীড়া সংস্থারমতো চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা বা জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের কোন আয়োজন নিয়মিত নয়।এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ফুটবল সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, আমি এই স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টকে নিয়মিতভাবে আয়োজনের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।আশা করছি সকলের সহযোগিতায় সেটা সম্ভব হয়ে উঠবে। তিনি আরো বলেন, স্কুল ফুটবল হচ্ছে, খেলোয়াড় তৈরির প্রাথমিক স্তর। একসময় গ্রামে গঞ্জে জুনের ফুটবল (টুর্নামেন্টটি জুন মাসেঅনুষ্ঠিত হতো বিধায় স্কুল টুর্নামেন্টটি জুন’র ফুটবল হিসেবে অধিক পরিচিত) টুর্নামেন্ট থেকেঅনেক ফুটবলার বেরিয়ে এসেছে।

loading...