খুলনার সংবাদপত্রের এজেন্ট ইয়াবাসহ কুমিল্লায় আটক

হুমায়ুন কবীর নামে খুলনার সংবাদপত্রের এক এজেন্টকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে কুমিল্লায়। টেকনাফ থেকে ইয়াবা নিয়ে ফিরছিলেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর ব্যবহৃত গাড়িতে ছিল বাংলাদেশ পুলিশের স্টিকার।

হুমায়ুনের সঙ্গে ইয়াবাসহ আটক হয়েছেন আরো তিনজন। গত ২৮ জুলাই ওই চারজন আটক হন। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের একটি প্রভাবশালী মহল ওই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টা চলছে।

হুমায়ুন কবীর খুলনা পেপার হাউস নামে এক সংবাদপত্রের এজেন্ট। তাঁর সঙ্গে আটক করা হয়েছে তাঁর শ্যালিকা কানিজ ফাতেমা সুরু, শামীম ইয়াসির ও ওহেদুজ্জামান রিপন নামের আরো তিন ব্যক্তিকে।

খুলনা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার এ এম কামরুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আজ সোমবার এ এম কামরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কুমিল্লার বিভিন্ন থানায় যোগাযোগ করেন। পরে তিনি নিশ্চিত হয়ে জানান, কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশ গত ২৮ জুলাই টেকনাফ থেকে খুলনায় আসার পথে একটি প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো-গ ২৩-৩৪৩৭) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আটক করে। ওই গাড়ি থেকে প্রায় ছয় হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা বর্তমানে কুমিল্লা জেলা কারাগারে আছেন। পুলিশের স্টিকার লাগানো গাড়িটি চালাচ্ছিলেন হুমায়ুন কবীর নিজেই।

কুমিল্লা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল আলমের সঙ্গে সরাসরি মুঠোফোনে ঘটনা জানতে চাইলে তিনি জানান, আটক ব্যক্তিরা কারাগারে আছেন। তাঁদের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে, তবে শুনানি হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, খুলনার দৌলতপুরে টিপু নামে এক ব্যক্তি ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। হুমায়ুন কবীর ওই গাড়িতে করে ইয়াবার চালান টিপুর কাছে নিয়ে যাওয়ার পথে আটক হন।

টিপু সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই সূত্র জানায়, টিপুর ভগ্নিপতি পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে টেকনাফে ছিলেন। টিপু ওই সূত্রে টেকনাফে গিয়ে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন। খুলনা পুলিশ ও মাদক অধিদপ্তরের মাদক বিক্রেতার তালিকায় টিপুর নামও আছে। ওই পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে উপপরিদর্শক হিসেবে (এসআই) ঢাকায় কর্মরত বলে জানা যায়। টিপুর কারণেই হুমায়ুনের ওই গাড়িতে পুলিশের স্টিকার ছিল বলে ওই সূত্র জানায়।

এদিকে হুমায়ুন কবীরের স্ত্রী ঝিনুকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ‘কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলব না’ বলে ফোন কেটে দেন।

তবে আটক হওয়া দৌলতপুরের ওহেদুজ্জামান রিপনের স্ত্রী জানান, তাঁর স্বামী কুমিল্লায় ইয়াবাসহ আটক হয়েছেন।

এদিকে হুমায়ুনের স্বজনরা জানিয়েছেন, হুমায়ুন নিজে মাদক গ্রহণ করতেন। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্য ও সাংবাদিকরা সালিস বৈঠকও করেছেন। হুমায়ুন ১৯৯৩-৯৪ সাল পর্যন্ত বাইসাইকেলে করে সংবাদপত্র বিক্রি করতেন। অভিযোগ উঠেছে, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থেকেই বিত্তবান হয়েছেন হুমায়ুন।

loading...
loading...