তিন বছরে খাতুনগঞ্জ হালিশহর ও বাকলিয়া সম্পূর্ণ জলাবদ্ধমুক্ত হবে

সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেছেন, আগামী তিন বছরে সিডিএর বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায়২৮টি স্লুইস গেট নির্মিত হবে। ফলে নগরীর খাতুনগঞ্জ, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, হালিশহর, মুরাদপুর, বাকলিয়া, বহদ্দারহাট প্রভৃতি এলাকা সম্পূর্ণ জলাবদ্ধমুক্ত হবে।
তিনি গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। গত বুধবার‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃ খনন, সম্প্রসারণ, সংষ্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষকপ্রকল্প একনেকে অনুমোদন উপলক্ষে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয় নগরীর জিইসিমোড়ে ওয়েল পার্ক রেসিডেন্সে।
সভায় জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি সিডিএর চলমান উন্নয়নপ্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন, অগ্রগতির চিত্র উপস্থাপন করা হয়।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিডিএ বোর্ড সদস্য জসিম উদ্দিন, জসিমউদ্দিন শাহ, কেবিএম শাহজাহান, স্থপতি সোহেল শাকুর, সিডিএ প্রধান প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহিনুল ইসলাম খান, উপ–সচিব অমল গুহ প্রমুখ।
মতবিনিময় সভায় সিডিএর চেয়ারম্যান সম্প্রতি একনেকে অনুমোদিত জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পপ্রসঙ্গে বলেন, আমরা জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যাপারে অনেক অভিজ্ঞজনের বক্তব্য, তাদেরপরামর্শ শুনেছি। ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে অনেক অর্থের প্রয়োজন ছিল। আমরা তাইজরুরি ভিত্তিতে ১৯৯৫ সালের ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান এবং ওয়াসা প্রণীত ২০১৬ সালের আপডেটমাস্টারপ্ল্যানের সমন্বয় করে এই প্রকল্প তৈরি করেছি। আগামী তিন বছরের মধ্যে এই প্রকল্পবাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি।
প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য কাজের বর্ণণা দিয়ে বলেন, প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খালের মাটি খনন করাহবে, ৫টি খালে পাম্পসহ স্লুইস গেট নির্মাণ করা হবে, পাহাড়ের বালিকে এক জায়গায় ধরে রাখারজন্য ৪২টি সিল্টট্র্যাপ স্থাপন করা হবে, খালের ওপর নির্মিত নিচু আকৃতির ৪৮টি ব্রিজ পুনঃস্থাপনকরে উঁচু করা হবে।
সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, আগামী ৫ বছর পর চট্টগ্রাম ৫০ বছর এগিয়ে যাবে।চট্টগ্রাম তখন যানজটমুক্ত, জলাবদ্ধতামুক্ত একটি দৃষ্টিনন্দন বাণিজ্যিক নগরীতে পরিণত হবে।
চলমান প্রকল্পের অগ্রগতির বর্ণণা : মতবিনিময় সভায় সিডিএ চেয়ারম্যান জানান, আগামীডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে নগরীর লালখান বাজার থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত আখতারুজ্জামান চৌধুরীফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হয়ে যাবে। শুধু জিইসি মোড়ে র‌্যাম্পের কাজ চলমান থাকবেএবং পুরো ফ্লাইওভারের কাজ আগামী বছরের এপ্রিল মাস নাগাদ সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদব্যক্ত করেন।
আগামী অক্টোবর মাস থেকে শুরু হবে প্রায় ৩২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে লালখান বাজার থেকে শাহআমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর পর্যন্ত ফ্লাইওভারের কাজ। এই ফ্লাইওভারে টাইগারপাস, আগ্রাবাদ, কাস্টমস গেট, ইপিজেড, কেইপিজেড, কাঠগড় প্রভৃতি এলাকায় সড়কে ওঠানামারসুযোগ থাকবে এবং ফ্লাইওভারের ওপরেই বাসস্ট্যান্ডের ব্যবস্থা রাখা হবে। যাতে সহজেইগণপরিবহন চলাচল করতে পারে।
ফৌজদারহাট থেকে বায়েজিদ বোস্তামী সড়ক পর্যন্ত ৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামের প্রথমবাইপাস রোডের কাজ প্রায় ৪০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আগামী বছরে দিকে এই বাইপাস সড়কটিনগরবাসীকে উপহার দিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সিডিএ চেয়ারম্যান।
পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত ২৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রিং রোডের কাজও ৫০ শতাংশ শেষহয়েছে। এ কাজ পুরোপুরি শেষ হবে ২০১৯ সাল নাগাদ। চাক্তাই থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত ২২৭৫কোটি টাকা ব্যয়ে কর্ণফুলীর তীরে বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে আগামী নভেম্বরমাসে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব : দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত নগরীর অন্যতম প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতানিরসনে সিডিএ কেন এতদিন পর তৎপর হয়েছে। এ সমস্যাটির প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে তারাফ্লাইওভার প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের দিকে মনোযোগ দিয়েছে কেন – এ প্রশ্নের জবাবেসিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন. ‘আল্লাহপাক আমাকে দিয়ে কাজটি করানোর জন্যইবোধ হয় এতদিন কাউকে দায়িত্ব দেননি। আমি এ ব্যাপারে কাউকে দোষ দেবো না।’
জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে নগরীর সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করা হবেকিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সমন্বয় ছাড়া তো কোনো কাজই করা সম্ভব নয়। সিটি মেয়রেরসঙ্গে আমার কথা হয়নি। তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তিনি আমাকে শতভাগ সহযোগিতা করবেন।ওয়াসার এমডির সঙ্গে আলাপ হয়েছে তিনি প্রকল্পের কাজে তাঁর সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেনআমাকে।’
জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে সিডিএ চেয়ারম্যানবলেন, ‘টেকনিক্যাল ফিজিবিলিটি স্টাডি হয়েছে। ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি ছাড়া তো কোনো প্রকল্পঅনুমোদন দেয়ার সুযোগ নেই।’
অনন্যা ও কল্পলোক আবাসিক এলাকায় জলাধার ভরাট করে প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিযোগেরজবাবে বলেন, ‘জলাধারের একটি সংজ্ঞা আছে। সিডিএ সেই সংজ্ঞা মেনেই অনন্যা ও কল্পলোকেআবাসিক প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে।’
নগরবাসীর প্রতি মিনতি : গতকাল মতবিনিময় সভার শেষ পর্যায়ে সিডিএ চেয়ারম্যান দু’হাত জড়োকরে নগরবাসীর প্রতি মিনতি করে বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ–আপনারানালা–নর্দমা পরিষ্কার ও খাল দখলমুক্ত রাখুন। জলাবদ্ধমুক্ত নগরী গড়তে আমাকে সহযোগিতাকরুন।’ তিনি এসময়ে উপস্থিত সংবাদকর্র্মীদেরকের কাছেও এ বিষয়ে তাদের লেখনির মাধ্যমেসচেতনতা সৃষ্টির অনুরোধ জানান। পত্রিকার পাতায় জলাবদ্ধ এলাকার মানুষজনকে সচেতন করারজন্য নিয়মিত জোয়ারভাটার খবর না ছেপে এধরনের সচেতনতামূলক স্লোগান তুলে ধরার কথাবলেন।

loading...