২০২১ সালের মধ্যে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবেনা – প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ইং সালে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি পালন করবো। এর আগেই আমরা প্রতিটি গৃহহীন মানুষের বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দিব ইনশাল্লাহ। আমি চাই বাংলাদেশে যেন একটি মানুষও গৃহহীন না থাকে। এই সময়ের মধ্যেই আমরা প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেবো, আলো জ্বালবো। আজ বুধবার সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় সানিয়াজান গুচ্ছগ্রামের উদ্ভোধনের আগে তিনি এ কথা গুলো বলেন।

গুচ্ছগ্রামবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকে গৃহহারা, ভূমিহারা মানুষকে অন্ততপক্ষে আমরা একটি ঠিকানা করে দিতে পারলাম। এতে আমি আনন্দিত। সীমিত শক্তি দিয়ে আমরা যতটুকু দিতে পেরেছি তা দিয়ে আপনারা জীবন-জীবিকাটা ভালোভাবে নির্বাহ করবেন।

তিনি বলেন, যে আমানত আজ আপনাদের হাতে তুলে দিলাম এটাকে নিজের ভাগ্য গড়ার কাজে ব্যবহার করবেন। এটা কোনোভাবেই যেন খিয়ানত না হয় সে দিকে আপনারা খেয়াল রাখবেন। আস্তে আস্তে আপনাদের জীবনমান উন্নত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদার প্রথমটাই হচ্ছে বাসস্থান। থাকার জায়গা হলে মানুষ তার জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করতে পারে। বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না। প্রতিটি মানুষের একটা ঠিকানা আমরা করে দেবো। এই লক্ষ্য নিয়েই আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলেই এ দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ দেশ হবে। বাংলার মাটিতে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের স্থান হবে না। আমাদের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া শিখবে, উচ্চশিক্ষিত হবে। দেশে-বিদেশে তারা কাজ করবে। নিজের পায়ের দাঁড়াবে। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাচ্ছি যে বিলুপ্ত ছিটমহলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে। বিভিন্ন অঞ্চলে যারা বসবাস করে তাদের একটা ঠিকানা, জীবন-জীবিকার একটা ব্যবস্থা আমরা করে দিতে। বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সুবিধাভোগী আফরোজা বেগম (৩৫) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লাল গোলাপ হাতে নিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আমি গোপালগঞ্জের মেয়ে আপনিও গোপালগঞ্জের মেয়ে। আমি লালমনিরহাট জেলায় বউ হয়ে এসেছি। আমার থাকার কোনো জায়গা ছিল না। আমি এই গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় নিয়ে চার শতক জমি ও ১৫ হাজার টাকা ঋণ পেয়েছি তা দিয়ে গরু ছাগল কিনে লালন পালন করছি। আপনি দোয়া করবেন, যেন গোপালগঞ্জের সম্মান রাখতে পারি।

আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে গড়ে ওঠা এ গুচ্ছগ্রামে সানিয়াজান নদীর তীরে গড়ে তোলা ৪০টি সুবিধাভোগী পরিবার আশ্রয় পেল। এ উপলক্ষে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক থেকে গুচ্ছগ্রামে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। রং বেরংয়ের কাগজ, বাঁশ ও কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়েছে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা। চারদিকে যেন সাজ সাজ রব। এ যেন গুচ্ছগ্রামবাসীর মহা আনন্দ।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্ভোধন ঘোষণার পর জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মোঃ আলাউদ্দিন খানের সঞ্চালনায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন এমপি সানিয়াজান গুচ্ছগ্রামের ফলক উম্মোচন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য অ্যাড. সফুরা বেগম,  লালমনিরহাট পুলিশ সুপার শহিদুল ইসলাম, পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর কুতুবুল আলম প্রমূখ।

আজ বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের ৭ জেলার ১০টি উপজেলার ১১টি গুচ্ছগ্রাম উদ্ভোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব গুচ্ছগ্রামে ৩৯০ পরিবার আশ্রয় পাবে।

loading...