আইসিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রোল মডেল

বাংলাদেশ নিজস্ব পরিকল্পনা, অর্থ এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (আইসিটি) ক্ষেত্রে বিশ্বে একটি রোল মডেল হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের নিমিত্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে সরকার আইসিটি খাতকে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বব্যাপী প্রয়োগ ও ব্যবহারে কারিগরি সহায়তা নিশ্চিতকরণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধা সমূহ প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছানো, অবকাঠামো নিরাপত্তা বিধান, রক্ষণাবেক্ষণ, বাস্তবায়ন, সম্প্রসারণ মান নিয়ন্ত্রণ ও কম্পিউটার পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ই-সার্ভিস প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর’ গঠন করেন।
এ অধিদপ্তর ইতিমধ্যে ৬৪টি জেলার ২০০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ল্যাব স্থাপন প্রকল্প অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন, শিক্ষকদের জন্য কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এবং এ্যাপ্লিকেশন উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, মাঠ পর্যায়ের সকল ধরনের আইসিটি সমস্যার সমাধানে সহায়তা প্রদান, আইসিটি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ ও কর্মসূচি সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান। কল সেন্টারের মাধ্যমে নাগরিক সেবা প্রদান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থানে স্থাপিত কম্পিউটার ও ভাষা শিক্ষা ল্যাব হতে সেবা গ্রহণ, অভিযোগ ও পরামর্শ। হালনাগাদ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জনসাধারণকে সরকারি তথ্য প্রাপ্তিতে সেবা প্রদান। এ সম্পর্কিত যে কোন অভিযোগ ও পরামর্শ।সরকারি ও আধা-সরকারি পর্যায়ে আইসিটি কারিগরি সহায়তা প্রদান।ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারেগুলোকে সহায়তা প্রদান।সরকারি অফিস সমূহে বিভিন্ন অনলাইন ই-পদ্ধতি চালুকরণে সহায়তা প্রদান। জাতীয় ব্যাকবোন নেটওয়ার্কের সাথে সার্বক্ষনিক সংযুক্ত রাখা সহ নানান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
কিছু বিদেশি কোম্পানি এ ব্যাপারে কিছু ভূমিকা রাখলেও ডিজিটালাইজেশনের বেশির ভাগ কাজ দেশের কিছু কোম্পানি করেছে।
২০১৬ সালের প্রথম দিকেই দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সাথে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সরকারি কাজের জন্য এবং সরকারি অফিস চালাতেও এখন ২৫ টি অ্যাপ্লিকেশন চালু করা হয়েছে। আরও ৫০০ টি অ্যাপ্লিকেশনও চালু করার কথা রয়েছে। গাজিপুরে অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধাসহ হাইটেক পার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। ৫৫ হাজার তরুণদেরকে ফ্রিল্যান্সিং সংক্রান্ত ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। ফ্রি ল্যান্সিং ক্ষেত্রেও ভাল কাজ করছে বাংলাদেশ। ওডেস্কের তালিকায় তিন নম্বর স্থানে এবং ইলেন্সে নবম স্থানে আছে বাংলাদেশ।গত অর্থ বছরে ফ্রি ল্যান্সিং কাজ করে বাংলাদেশে ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমানের টাকা উপার্জন করেছে বাংলাদেশ। আইসিটি সেক্টরের অধীনে বাংলাদেশের উপজেলা পর্যায়েও ১৮১৩২ টি সরকারি অফিসে ইন্টারনেট সেবা দেয়া হচ্ছে। ৩১ কিলোমিটার ফাইবার অপটিক্যাল তারও স্থাপন করা হয়েছে।সচিবালয় জুড়ে ওয়াই ফাই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। পুরো টেকনোলজি ক্ষেত্রের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হতে যাচ্ছে হাইটেক পার্ক স্থাপনঅ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টাল তৈরি করেছে বাংলাদেশ যেখানে পঁচিশ হাজার ওয়েব সাইট যুক্ত রয়েছে।
বেসিস, বিসিএস, বাক্কো, ইস্পাবের মত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশের আইসিটি ডিভিশন। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে বেশ কিছু পুরস্কারও জিতেছে বাংলাদেশ।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে আমাদের স্কুল কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান বাড়াতে হবে এবং তাদেরকে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে।

তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তুলতে হবে বিশেষ করে মফস্বল এলাকার শিক্ষার্থীদেরকে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলে সুযোগ তৈরী করতে হবে। ইংরেজী শিক্ষাকে সবার জন্য তথ্য প্রযুক্তি সাপোর্টের মাধ্যমে সহজভাবে তোলে ধরতে হবে কারন তরকারী ছাড়া যেমন ভাত খাওয়া যায় না ঠিক তেমনি ভাল ইংরেজী জ্ঞান ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা লাভ করা যায় না।
ইতিমধ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় গ্রামগঞ্জে বেকার যুবক-যুবতিদেরকে টেকার প্রকল্পের আওতায় ভ্রাম্যমান কম্পিউটার প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে।

আইসিটি ক্ষেত্রে মহিলাদের কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি
বেশ কয়েকবছর আইসিটি ক্ষেত্রে অনেক বেশী আয় করছে বাংলাদেশ। গত বছর বাংলাদেশের আইসিটি থেকে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে।আইসিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অনেক মহিলাদের কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। আইসিটিকে তুলে ধরতে বাংলাদেশ সরকারও অনেক গুলো পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে।
মহিলাদের আইসিটি ক্ষেত্রে উৎসাহিত করতে অনেক ধরণের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। এসব প্রতিযোগিতায় উল্লেখজনক সংখ্যক মহিলারা অংশ নিচ্ছেন। যা বাংলাদেশের মহিলাদের অনেক বেশী আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে। প্রযুক্তি গত বিভিন্ন ব্যবসায় মহিলাদের অংশগ্রহণও অনেক বেড়ে যাচ্ছে। মহিলারা এখন আর ঘরে বসে না থেকে আউট সোর্সিং এবং ই-কমার্সের অনেক কাজে সাহায্য করছে। এমনকি অনেক সাহসী নারী উদ্যোক্তারা নিজেরাই নতুন ব্যবসা খুলে বসেছেন। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের আইসিটি ক্ষেত্রে এখন অনেক সুযোগ তৈরি হয়েছে।সেসব সুযোগগুলো বাংলাদেশের মহিলারাও এখন লুফে নিচ্ছেন।
জাতিসংঘের ই-গভার্নমেন্ট উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ আগের চেয়ে এগিয়েছে ‘২০১৪ সালে এ সূচকে বাংলাদেশ ১৪৮তম স্থানে ছিল, ২০১৬ সালে এ অবস্থান পৌঁছেছে ১২৪ নম্বর স্থানে।’

loading...